Walpad 10P: অনেকদিন পর ওয়ালটনের নতুন ট্যাবলেট!

বড় ডিসপ্লের স্মার্টফোন এখন জনপ্রিয় হলেও কেন যেন কোম্পানিগুলো বাজারে ট্যাবলেট প্রায় আনছেই না, বিশেষ করে যদি এন্ট্রি লেভেল থেকে মিড রেঞ্জের কথা বলি। Walpad 10P ওয়ালটনের পক্ষ থেকে নতুন একটি লোয়ার মিডরেঞ্জ ট্যাবলেট, যা 10.5″ ডিসপ্লেসহ এসেছে।

Walpad 10P এর দাম রাখা হয়েছে ১৭,৯৯০ টাকা। দামটা একটু বেশি বলেই আমার মনে হয়েছে, তবে স্পেকের দিক থেকে ট্যাবলেটটি বেশ ব্যালেন্সড এবং বিশেষ করে যেহেতু এখন ট্যাবলেটের বাজারে তেমন কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, তাই ট্যাবলেট ক্রয়ে ইচ্ছুকদের জন্য আকর্ষণীয়।

স্মার্টফোন থেকে একটি ট্যাবলেটের সবচেয়ে দৃশ্যমান পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্য অবশ্যই ডিসপ্লে। Walpad 10P থেকে বেশ হিউজ একটা ডিসপ্লে থাকছে, 10.5″। আর এর অ্যাসপেক্ট রেশিও, তথা দৈর্ঘ্য প্রস্থের অনুপাত হলো 14.4:9, অর্থাৎ ডিসপ্লে এরিয়া প্রশস্ত।

ডিসপ্লে রেজ্যুলেশন FHD (1920*1200) এবং এটি একটি IPS প্যানেল। ব্রাইটনেস 480nits, যা আউটডোরে অপারেট করার জন্য মোটামুটি ওকে। এটি ১০ পয়েন্ট মাল্টিটাচ সমর্থিত, এবং সবশেষে এখানে কোন হায়ার রিফ্রেশ রেট থাকছে না, 60Hz প্যানেল।

মোটামুটি ক্লাসিক একটা ট্যাবলেটের মতই এর ডিজাইন রাখা হয়েছে, ফ্রন্ট এবং রেয়ার দুদিকেই। তো এটা দেখতে মন্দ নয়, আমার ভালোই লেগেছে, তবে এটা কিন্তু প্লাস্টিকে তৈরি এবং একটিই কালার ভ্যারিয়েন্ট আছে, কালো। এর ওজন হলো 510g, তাছাড়া ট্যাবলেটটি অনেকটা স্লিম, এর থিকনেস হলো 8.3mm।

Helio P60 থাকছে এই ট্যাবলেটে, যা বছর তিনেকের পুরনো, তবে একটি ট্যাবলেটের মূল চাহিদাগুলো পূরণের জন্য যথেষ্ট পাওয়ারফুল বলবো আমার মতে। এর সাথে 4GB LPDDR4 র‌্যাম ও 128gb স্টোরেজ থাকছে। স্টোরেজ এসডি কার্ডের সাহায্যে 256gb পর্যন্ত এক্সপেন্ডযোগ্য।

এখানে আপনি সেলুলার নেটওয়ার্ক তথা সিম ব্যবহার করতে পারছেন। হাইব্রিড সিম স্লট থাকায় দুটো সিম অথবা একটি সিম ও একটি এসডি কার্ড ব্যবহারের সুযোগ আছে, একইসাথে দুটো সিম ও এসডি কার্ড ব্যবহারের অপশন নেই।

সাধারণত ট্যাব প্রোডাক্টিভ কাজ, মাল্টিটাস্কিং, মাল্টিমিডিয়া, ইবুক পড়া প্রভৃতি কাজগুলোতে বেশি ব্যবহার হয়। এছাড়া এখন অনলাইন ক্লাস করা বা করানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এরকম ব্যবহারের জন্য এর হার্ডওয়্যার কিন্তু যথেষ্ট ক্যাপাবল।

ফটোগ্রাফির জন্য আজকাল অনেকেই সত্যিকারের ক্যামেরা না কিনে ভালো ক্যামেরার স্মার্টফোনের দিকে ঝুঁকছেন, তবে ট্যাবলেট কেউ ফটোগ্রাফির উদ্দেশ্যে কিনেন কিনা আমার জানা নেই। ওয়ালটন তাই এই ট্যাবলেটে ক্যামেরাতে তত ফোকাস রাখেনি, 8MP রেয়ার ক্যামেরা ও 5MP ফ্রন্ট ক্যামেরা থাকছে।

তবে আমার যেটা মনে হয়, এখন অনলাইন ক্লাস বা ভিডিও কলের ব্যাপারগুলো যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ, তাই ফ্রন্ট ক্যামেরাতে বেটার কিছু প্রয়োজন ছিলো। এর ফ্রন্ট ক্যামেরা সর্বোচ্চ 1280x720p রেজ্যুলেশনে ভিডিও রেকর্ড করতে পারে।

প্রাণশক্তি হিসেবে 7000mAh এর একটি পাওয়ারহাউজ থাকছে Walpad 10P-তে। টাইপ সি পোর্ট থাকলেও ফাস্ট চার্জিং সমর্থন অবশ্য থাকছে না, যেটা থাকলে ভালো হত। 5V/2A চার্জার দিয়ে একে পুরো চার্জ করতে প্রায় সাড়ে চার ঘন্টার মত প্রয়োজন হতে পারে।

আর এখানে কিন্তু স্টেরিও স্পিকার থাকছে, যেটা অবশ্যি ট্যাবলেট হিসেবে এক্সপেক্টেড-ই ছিলো। ডুয়াল বক্স স্পিকারের সাউন্ড এক্সপেরিয়েন্স ভালোই হবে আশা করছি।

এখানে নেই কম্পাস সেন্সর ও জাইরো সেন্সর। দাম হিসেবে শুধু লাইট সেন্সর, প্রক্সিমিটি সেন্সর আর জি-সেন্সর থাকাটা মানাচ্ছে না। বিশেষ করে জাইরো সেন্সর আমার মতে বেশ কাজের একটা জিনিস, শুধু গেমিংয়ের ক্ষেত্রে নয়, ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও বা গুগল ম্যাপের স্ট্রিট ভিউয়ের অভিজ্ঞতা এটা অসাধারণ করে। না থাকার মধ্যে আরো আছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, একটা সাইড মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দেয়া গেলে চমৎকার হত।

সবমিলিয়ে আমি যদি বলি, অনেকদিন পর এরকম একটা ট্যাবলেট বাজারে আনার ব্যাপারটাই মূলত আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। তবে দামটা একটু বেশিই হয়েছে বলবো, এটা ১৫-১৬ হাজার টাকার মত দাম হলে সম্ভবত ঠিকঠাক হত। অবশ্য সম্প্রতি তাদের বাজারে আনা Walton Primo RX8 থেকে এর প্রাইসিং যথেষ্ট ভালো :”)

তবে বড় কথা হলো ওয়ালটন ট্যাবলেটের মার্কেটে ফিরে এসেছে এবং সম্ভবত মার্কেটের একটি শূন্যস্থান এই ট্যাবলেটটি পূরণ করেছে। সামনে তারা বিশেষ করে ১০ হাজারের আশেপাশে ভালো কনফিগারেশনের ট্যাবলেট আনবে বলে আশা করছি, কেননা, কনজ্যুমারদের অনেকের জন্যই Walpad 10P-র দামটা বাজেটের বাইরে হতে পারে।

অফিসিয়াল ওয়েবপেজ

Leave a Reply