Symphony Z28 ও Z32 ডিটেইলড কম্পারিজন

তো প্রথম কথা হলো Z32 মূলত Z28-কে রিপ্লেস করার জন্য আনা হয়েছে, কাজেই মার্কেটে Z28 সম্ভবত খুব বেশিদিন এভেইলেবল থাকবে না, তবে এখন পর্যন্ত সম্ভবত দুটোরই স্টক আছে এবং দামের তফাৎ-ও নেই বলা যায়, তাই যারা আট থেকে নয় হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন কিনতে চাইছেন, তাদের জন্য এই পোস্টটি কাজে আসবে আশা করছি।

Z28 রিলিজ করা হয়েছিলো ৮৯৯০ টাকায়। পরবর্তীতে এর দাম কিছুটা কমিয়ে ৮৪৯০ টাকা করা হয় এবং Z32-র দাম ৮৫৯০ টাকা রাখা হয়েছে। দুটো ফোন-ই ৩/৩২ ভ্যারিয়েন্টে আছে। অবশ্য অন্য নামে এদের ২/৩২ ভ্যারিয়েন্টও আছে, অর্থাৎ Z28-এর ২/৩২ ভ্যারিয়েন্ট Z16 (৮,২৯০ টাকা, কেননা এখানে দাম কমানো হয়নি) ও Z32-র ২/৩২ Z18।

ডিজাইনের দিক থেকে Z28 সুন্দর, তবে Z32 আমার চোখে বেশি আকর্ষণীয়। এর সান-ব্রাস্ট প্যাটার্ন ও ক্যামেরা মডিউল, সাথে ম্যাট ফিনিশ মিলিয়ে দারুণ দেখায়। বিশেষ করে আমাজন গ্রিন কালারটি আমার বেশি পছন্দ। অন্য কালারটি হলো মিডনাইট ব্লু।

অন্যদিকে Z28 এর-ও দুটো কালার ভ্যারিয়েন্ট আছে, ক্যারিবিয়ান ব্লু ও ক্র্যানবেরী রেড। তবে এই ফোনটিতে রয়েছে গ্লসি ফিনিশ, যাতে সহজে আঙুলের ছাপ পড়ে।

সামনের দিকে দুটো স্মার্টফোনেই 6.52″ IPS ডিসপ্লে থাকছে, রেজ্যুলেশন HD+ (1600*720) এবং PPI ~269। তবে চিন ও বেজেলের পরিমাণ Z32-তে তুলনামূলক ন্যারো।

এক্সটেরিয়রের কথা বললে নিচের দিকে চার্জিংয়ের জন্য MicroUSB Type B পোর্ট ও ওপরের দিকে 3.5mm ইয়ারফোন জ্যাক পোর্ট থাকছে দুটো ফোনেই। তবে Z28-এ স্পিকার গ্রিলস নিচের দিকে থাকলেও Z32-তে তা রেয়ারে দেয়া হয়েছে, যা এর একটি ডাউনসাইড ধরা যায়।

এছাড়া রেয়ার মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরও উভয় ফোনে উপস্থিত। এবং দুটো ফোনের ক্ষেত্রেই একটি স্পেশাল ফিচার থাকছে, যা কিনা সিম্ফনি তাদের সাম্প্রতিক ফোনগুলোতে ইমপ্লিমেন্ট করছে, অর্থাৎ, একটি ডেডিকেটেড গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কী আছে লেফট সাইডে।

এরপর আমরা যদি ক্যামেরা সেক্টরে দেখি, Z28-এর ক্যামেরা থাকছে ত্রিপল রেয়ার ক্যামেরা সেটআপ, একটি 13MP প্রাইমারী সেন্সর, একটি 5MP আল্ট্রাওয়াইড ও একটি 2MP ডেপথ সেন্সর। এই বাজেটে আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা দেয়া এই ফোনের একটি প্রশংসনীয় দিক, যদিও এটি ভালো আলো পেলেই কেবল কাজে লাগতে পারে। অন্যদিকে সেলফি ক্যামেরা 8MP।

Z32-তে আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা বাদ পড়েছে, সেলফি ক্যামেরা 5MP। তবে রাতের বেলা প্রাইমারি ক্যামেরাতে ছবি তোলার সময় এখানে একটা এডভান্টেজ আছে, কেননা এর প্রাইমারী 13MP ক্যামেরার অ্যাপার্চার f/1.85, যেখানে Z28-এর প্রাইমারী ক্যামেরাটি f/2.0 অ্যাপার্চারের।

চিপসেট হিসেবে থাকছে Z32-তে Unisoc SC9863A (1.6GHz অক্টাকোর A55) এবং Z28-এ আছে Helio A25 (1.8GHz অক্টাকোর A53)। গীকবেঞ্চে সিঙ্গেল কোর ও মাল্টিকোরে Z28 এর স্কোর যথাক্রমে প্রায় ১২০ ও ৪৩০ এবং Z32-র ক্ষেত্রে প্রায় ১৫০ ও ৮৩০।

এই হিউজ ডিফারেন্স দেখে কি অবাক হচ্ছেন? আসলে ব্যাপার সেটা না, ব্যাপার হলো Z28-এ 32 বিট অ্যান্ড্রয়েড থাকছে, যেখানে গীকবেঞ্চের অ্যালগরিদম 64 বিট থেকে আলাদা। একারণে স্কোর এতটা কম। এর মানে এই নয় যে রিয়েল লাইফে পারফর্মেন্সে প্রভাব পড়বে।

পারফর্মেন্সে SC9863A আর A25 প্রায় সমান, হয়ত A55 কোরের জন্য SC9863A স্লাইটলি বেটার হতেও পারে। তবে যদি ওভারঅল দেখি, A25 সহজেই একটি বেটার অপশন। এর বড় কারণ হলো, এটি 12nm আর্কিটেকচারে তৈরি, পাওয়ার সেভিং একটি চিপসেট।

অন্যদিকে 28nm হওয়ার অর্থ হলো ইফিশিয়েন্সি কম হওয়া, অর্থাৎ, অপারেট করতে বেশি পাওয়ার প্রয়োজন হয় এবং হিটআপ হওয়ার একটি সম্ভাবনা থাকে।

পাওয়ার কনজাম্পশনের কথা বলছিলাম, এখানে চলে আসে ব্যাটারীর প্রসঙ্গ। 5000mAh এর বেশ ম্যাসিভ একটি ব্যাটারী নিয়ে এসেছে Z32, অন্যদিকে Z28-এ থাকছে 4000mAh। কিন্তু বড় ব্যাটারী হওয়ার পরও যে Z32-র ব্যাকআপ অনেক বেশি হবে, এমনটা এক্সপেক্ট না করাই ভালো এর 28nm চিপসেটের জন্য।

সেদিক থেকে দেখলে Z32 আপনার চার্জ দিতে বেশি সময় লাগছে, অথচ ব্যাকআপ তত বেশি কিন্তু পাচ্ছেন না। আবার Z28 অনেকটা স্লিম, 8.4nm, কিন্তু Z32 9.3mm। Z28-এর ওজন 180g, Z32-র সঠিক ওজন আমার জানা নেই, তবে কিছুটা বেশিই হওয়ার কথা। এদিকগুলোতে আমার মতে Z28-এরই একটা এডভান্টেজ আছে।

G সেন্সর, প্রক্সিমিটি সেন্সর ও লাইট সেন্সর উভয় ফোনে থাকলেও কোনটিতেই নেই জাইরোস্কোপ ও ম্যাগনেটোমিটার। Z28-এ নোটিফিকেশন লাইট আছে, কিন্তু Z32-তে নেই। দুটো ফোনেই সফটওয়্যার সেকশনে মোটামুটি স্টক Android 10 থাকছে, সাথে কিছু স্মার্ট ফিচার বাড়তি আছে।

সবশেষে আমি যদি বলি, Z28 আমার একটু বেশি ভালো মনে হয় সব মিলিয়ে, যেখানে এর স্লিমনেস একটি প্রধান আকর্ষণ, যেহেতু ফোন যতক্ষণ হাতে রাখা হয়, এটা ততক্ষণ ফিল করা যায়। বাট ওকে, Z32-ও দামের হিসেবে বেশ ভালো একটি ডিল, বিশেষ করে এর ডিজাইন ও ম্যাট ফিনিশ একে আকর্ষণীয় করে তোলে, এবং যদি Z28 মার্কেটে না পাওয়া যায়, তখন এটিও মন্দ নয়।

তবে এটা আমার কথা, প্রতিটি কনজ্যুমারের চাহিদায় ভিন্নতা থাকে। তাই অবশ্যই স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে নিজের চাহিদা ও পছন্দকে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ থাকবে।

লেখাটি পড়ার জন্য অনেক শুকরিয়া। এর সাথে এই লেখা নিয়ে কোন মন্তব্য বা অসামিয়ার জন্য কোন পরামর্শ থাকলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিবেন, আর সেই সাথে জানাবেন এই স্মার্টফোন দুটোর মধ্যে কোনটি আপনার বেশি ভালো লেগেছে।

Leave a Reply