ইনফিনিক্স হট ১০ প্লে: বাজেটে জোস ডিল!

এই ফোনে আছে 6.82″ HD+ IPS প্যানেল, Helio G35 এসওসি, ৪ জিবি র‌্যাম, ৬৪ জিবি ইন্টার্নাল স্টোরেজ, প্রয়োজনীয় সেন্সরগুলো এবং সবকিছুর পরে ইনফিনিক্স হট ১০ প্লে-র দাম শুধুমাত্র ১০,৪৯০ টাকা রাখা হয়েছে এবং বলতে হয় ভ্যালু ফর মানির দিক থেকে দেখলে এটা খুবই ইমপ্রেসিভ।

6.82″ ডিসপ্লে, যারা বড় ডিসপ্লে পছন্দ করেন, তাদের জন্য খুবই আকর্ষণীয় ব্যাপার হতে পারে। তবে পার্সোনালি আমার কাছে পকেটে ফোন নিয়ে ঘুরে বেড়ানো বা এক হাতে চালানোর ক্ষেত্রে এটা বেশিই বড় সাইজ মনে হয়, তো এটাও মাথায় রাখা ভালো।

1640*720 HD+ ডিসপ্লে হওয়ায় এখানে শার্পনেসের কিছু কমতি অবশ্যই আছে, তবে সাধারণ ইউজারদের জন্য এটা বড় ডিল বলে মনে হয় না, আর এর চেয়ে বেটার রেজ্যুলেশন এই বাজেটে আশা করাও যায় না। এনিওয়ে, এটি একটি 60Hz রিফ্রেশ রেটের IPS প্যানেল।

এর ডিজাইনও কিন্তু খুব সুন্দর করা হয়েছে, একটি রিফ্লেক্টিং প্যাটার্ন থাকছে। চারটি কালারে ফোনটি আনা হয়েছে, নামগুলো বেশ কঠিন ধরণের, Aegean Blue, Morandi Green, Obsidian Black আর সবশেষে 7° Purple।

তবে এক্সটেরিয়রে ভালোভাবে দেখলে দুটো কমতি চোখে পড়ে। প্রথমত, মাইক্রোইউএসবি পোর্ট থাকছে, যেটা নট এ বিগ ডিল, এই দামে এখনো টাইপ সি খুব কম ফোনেই আছে। তবে দ্বিতীয়ত, এতে ইয়ারপিস ছাড়া আলাদা কোন স্পিকার থাকছে না। যেকারণে সাউন্ড কোয়ালিটি নিয়ে একটু ডাউট থাকে, যদিও আমি হ্যান্ডস অন এক্সপেরিয়েন্স করিনি।

চিপসেট সেকশনে Helio G35 এরকম দামের বেশকিছু ডিভাইসে আমরা ব্যবহার হতে দেখেছি এবং আমার মতে এরকম দামের ফোনের জন্য G35 বেশ মানানসই একটি চিপসেট। G দেখে টুরু গেমিং চিপসেট মনে করা বা এটা থেকে খুব বেশি এক্সপেক্টেশন রাখা অবশ্য উচিৎ হবে না, তবে এই দামে আর সবকিছুর সাথে মিলিয়ে G35 ভালো একটি চয়েস।

এটি ৪/৬৪ ভ্যারিয়েন্টে আনা হয়েছে, যা এই দামে খুব বেশি ফোনে এখনো দেখা যায় না। G35-এর সাথে মিলে ৪ জিবি র‌্যামের সাথে ভালো মাল্টিটাস্কিং এক্সপেরিয়েন্স হতে পারে এই ফোনে। আর স্টোরেজ যদি ৬৪ জিবিও যথেষ্ট না হয়, তাহলে পুরো ৫১২ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ এক্সপেন্ডেবল!

ক্যামেরা সেকশনে 13MP প্রাইমারি ক্যামেরা থাকছে। এর অ্যাপার্চার f/1.8, এটা একটা সুন্দর ব্যাপার। ছবিতে যদি তিনটি ক্যামেরা মনে হয়, তবে বলে রাখি, এর একটি ক্যামেরা নয়, জাস্ট ট্রেন্ড ফলো করে ক্যামেরা লেন্সের স্টাইলে AI লেখা। আর অন্যটি হলো AI লেন্স, যেটার একটি কাজ সম্ভবত লাইট ডিটেক্ট করে ছবি এডজাস্ট করা, তবে প্রধান কাজ আসলে ক্যামেরার সংখ্যা বেশি করা।

ব্র্যান্ডগুলোকে একা দোষ দেয়া যায় না, আসলে অনেক কনজ্যুমারও ক্যামেরা কয়টা আছে বা দেখে কয়টা মনে হয় ব্যাপারগুলোকে গুরুত্ব দেয়, যেকারণে কোম্পানিগুলোও AI লেন্স/AI টেক্সট/2MP ক্যামেরা দিয়ে সংখ্যা বাড়িয়ে ব্যাপারটা আকর্ষণীয় বানানোর চেষ্টা করে। তবে এই ব্যাপারটা আমার পার্সোনালি কখনোই পছন্দ নয়।

সেলফি ক্যামেরার কথা বললে এখানে থাকছে একটি 8MP ক্যামেরা। সেলফি ক্যামেরাতেও ফ্ল্যাশ থাকছে, অন্ধকার বা কম আলোতে ছবি তোলার জন্য যেটা সুন্দর ব্যাপার, রেয়ারে কোয়াড ফ্ল্যাশ থাকছে।

তবে আমার কাছে এই ফোনের খুবই ইমপ্রেসিভ একটি হলো বড় ব্যাটারী সত্ত্বেও এটি কিন্তু বেশ স্লিম ডিজাইন। এর আগে 6000mAh ব্যাটারীর যে ফোনগুলো আমি দেখেছি সেগুলোর থিকনেস 9.3mm থেকে 10.1mm এর মধ্যে ছিলো।

কিন্তু ইনফিনিক্স হট ১০ প্লে যদিওবা 6000mAh ব্যাটারী দিচ্ছে, এটা তুলনামূলক অনেকটা স্লিম, 8.9mm (অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী)। অবশ্যই এখনও এটা একটু থিক কারো কারো জন্য, তবে ব্যাটারীও তো দেখতে হবে। এরকম বাজেটে বড় ব্যাটারী দিয়েও মোটামুটি একটা স্লিমনেস ধরে রাখতে পারাটা সাধুবাদের যোগ্য।

তবে চার্জিং অবশ্য 5V-2A বা 10W, মানে কোন ফাস্ট চার্জিং সমর্থন নেই, ফলে পুরো চার্জ করতে ৪ ঘন্টার মত সময় দরকার হতে পারে। বাট ওকে, এত কম দামে এত কিছু একসাথে চাওয়া ঠিক হবে না।

এরপর সেন্সর সেকশনে আসলে এখানে লাইট, প্রক্সিমিটি, জি-সেন্সর ও ই-কম্পাস সেন্সর থাকছে। হার্ডওয়্যার বেজড না হলেও ভার্চুয়াল বা সফটওয়্যার বেজড জাইরো উপস্থিত। আর হ্যা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরও আছে। সব মিলিয়ে এদিকেও কিন্তু Hot 10 Play কমতি রাখেনি।

সফটওয়্যারের কথা বললে এখানে থাকছে XOS 7 অন টপ অফ অ্যান্ড্রয়েড ১০। XOS নিয়ে আমার ওরকম অভিজ্ঞতা নেই, এটা ইনফিনিক্সের কাস্টম ইউআই, যা স্টক থেকে বেশ অনেকটাই আলাদা। আর হ্যা, তারা ইউআইতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে, তবে আপনি বন্ধ রাখতে পারে।

সবমিলিয়ে ইনফিনিক্স হট ১০ প্লে আমার কাছে এই বাজেটের বেস্ট একটি অপশন মনে হয়েছে ভ্যালুর দিক থেকে, যেটা সহজেই সাজেস্ট করা যায়। ভালো না লাগার মধ্যে আলাদা স্পিকার না থাকার ব্যাপারটা দৃষ্টিকটু। এছাড়া কমপ্যাক্ট ফোন চাইলে 6.82″ ডিসপ্লে নিয়ে অবশ্যই হট ১০ প্লে আপনার জন্য খুব ভালো অপশন না-ও হতে পারে।

অফিসিয়াল ওয়েবপেজ

Leave a Reply