ওয়ালটন বাজারে এনেছে তাদের নতুন স্মার্টফোন Walton Primo HM6, লেখার সময় পর্যন্ত এটার প্রি-বুক চলছে। সিরিজের আগের স্মার্টফোন, Primo HM5 থেকে HM6 বেশ আলাদা ধরণের। তবে দুটো ফোনের ক্ষেত্রেই ব্যাটারীর ব্যাপারটাকে বিশেষভাবে প্রচার করেছে ওয়ালটন, এবং HM5-এর 4900 mAh এর তুলনায় এবার আরো ম্যাসিভ 6000 mAh একটি ব্যাটারী থাকছে HM6-এ, এন্ড গেস হোয়াট? HM6-কে তারা বলছে ব্যাটারী টাইটান!

তবে HM5-এ যেখানে ৩/৬৪ র‌্যাম-রমের ব্যাপারটি ছিলো সবচেয়ে বড় একটি আকর্ষণ, একই রেঞ্জে আসা HM6 দিয়েছে শুধুমাত্র ২/৩২। পরিবর্তন এসেছে চিপসেটে, Helio A20 ছেড়ে তারা ফিরে এসেছে Unisoc SC9863A-তে, যেটা আমার পছন্দ হয়নি। এছাড়া তারা হালের ট্রেন্ড ফলো করে যুক্ত করেছে 6.52″ একটি ডিসপ্লে, তো, HM5-এর মত 6.1″ ডিসপ্লের কমপ্যাক্ট ডিভাইস কিন্তু HM6 নয়।

HM5-এর দাম রাখা হয়েছে ৮,৮৯৯ টাকা। এই ফোনটির কনফিগারেশন অনুযায়ী এর সরাসরি প্রতিপক্ষ আমার কাছে মনে হয়েছে Symphony Z18। Z18-এর দাম অবশ্য কিছুটা কম, ৭,৭৯০ টাকা। তবে সিম্ফনি সাধারণত তাদের স্মার্টফোনগুলো নির্ধারিত মূল্যেই সেল করে, খুব একটা ডিসকাউন্ট পাওয়া যায় না, ওয়ালটনে সেখানে হরহামেশাই ডিসকাউন্ট অফার দেখা যায়, যেমন, এখন প্রি-বুকে ১০০০ টাকা ছাড়ে HM6 পাওয়া যাচ্ছে ৭,৮৯৯ টাকায়।

HM6 আর Z18 এর মধ্যে মিল আছে অনেক। দুটো ফোন আসলে একই ধরণের অডিয়েন্সকে টার্গেট করে বানানো। তবে পার্থক্যও আছে, যা আজকের আলোচনায় তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

ফোন দুটোর এক্সটেরিয়রে বেশ ভালোই তফাৎ চোখে পড়ে। ওয়ালটন একটু পুরনো স্টাইলের গ্র্যাডিয়েন্ট কালারিং করেছে, তবে কালারগুলো বেশ সুন্দর, সাথে ছোটখাট আইফোন ইন্সপায়ার্ড ক্যামেরা মডিউলটি একে একটা কিউট লুক এনে দিয়েছে। এতে থাকছে গ্লসি ফিনিশ।

তবে ডিজাইনের দিকে বললে সিম্ফনি Z18 আমার মনে হয় সহজেই প্রায় সবারই বেশি ভালো লাগবে। এর ম্যাট ফিনিশ, সান-ব্রাস্ট প্যাটার্ন, আর একটু অন্যরকম ক্যামেরা মডিউল আমার চোখে বেশ আকর্ষণীয় লেগেছে।

পোর্টস এন্ড বাটনসের কথা বললে দুটো ফোনের ক্ষেত্রেই ওপরের দিকে 3.5mm অডিও জ্যাক, নিচে মাইক্রোইউএসবি টাইপ বি ও মাইক্রোফোন, ডানে পাওয়ার বাটন ও ভলিউম রকার্স থাকছে এবং ইন্টেরেস্টিংলি, বাম দিকে Z18 আর HM6 দুটো ডিভাইসেই গুগল অ্যাসিস্টেন্ট বাটন যুক্ত করা হয়েছে, যেটা সিম্ফনির আরো কয়েকটি ডিভাইসে আমরা দেখা পেলেও ওয়ালটনে বোধ করি প্রথমবার।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দুটো ফোনেরই রেয়ার সাইডে আছে, কিন্তু একটি জায়গায় এডভান্টেজ পেয়েছে ওয়ালটন, তা হলো এখানে স্পিকার থাকছে নিচের দিকে, যা কিনা Z18-এ রেয়ারে দেয়া হয়েছে।

দুটো ফোনের দৈর্ঘ্য-প্রস্থও অনেকটা কাছাকছি। এমনকি প্রস্থের দিকে দুটোই 75.85mm, তবে দৈর্ঘ্যে Z18 সামান্য বেশি, 164.7mm, যেখানে HM6 164.4mm, যেখানে আসলে পার্থক্য করার তেমন কিছু নেই। থিকনেসে অবশ্য তফাৎ আছে, যেটা ব্যাটারীর আলোচনার সময় আসছে।

ডিসপ্লের দিকে HM6 আর Z18 অন্তত স্পেক দেখে পার্থক্যের সুযোগ মোটেও নেই, রিয়েল লাইফ এক্সপেরিয়েন্সে তফাৎ আছে কিনা তা অবশ্য বলতে পারছি না। তো, সেম HD+ 1600*720 IPS ডিসপ্লে দেয়া হয়েছে, ডেনসিটি প্রায় 269 ppi।

এর আগে আমরা Symphony Z16 আর Walton Primo HM5-এ যথাক্রমে Helio A25 আর Helio A20 দিতে দেখেছিলাম। তবে Z18 আর HM6 এসেছে 1.6GHz অক্টাকোর A55 সিপিইউসহ Unisoc SC9863A নিয়ে, যে পরিবর্তনটা আমার মোটেও ভালো লাগেনি।

যদি পারফর্মেন্সের কথা বলি, তাহলে সম্ভবত এটা A20 থেকে বেটার কিন্তু A25 থেকে পিছিয়ে। তবে সমস্যা সেটা নয়, সমস্যা হলো 28nm-এর Unisoc SC9863A ব্যবহার করা স্মার্টফোনগুলোর ব্যাটারী তুলনামূলক দ্রুত শেষ হয়, আর 12nm চিপসেটগুলো থেকে হিটিংয়ের ব্যাপারটাও বেশি দেখা যায়। Z18 আর HM6 যেহেতু বাজেটে বড় ব্যাটারীর ব্যাপারটাতে ফোকাস রেখেছে, পাওয়ার সেভিং A20 বা A25-ই বেটার চয়েস ছিলো আমার মতে।

ক্যামেরার কথা বললে রেয়ারে দুটো স্মার্টফোনই 13MP প্রাইমারী ক্যামেরাসহ ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ থাকছে। তবে দ্বিতীয় ক্যামেরাটি কী সেটা নিয়ে ওয়ালটন কিছুই জানায়নি, অন্যদিকে সিম্ফনিরটি 2MP ডেপথ সেন্সর। প্রাইমারী ক্যামেরা অ্যাপার্চার Z18-এ f/1.85, কিন্তু HM6-এরটি f/2.0। তো, রেয়ার ক্যামেরাতে Z18 এগিয়ে রয়েছে, বিশেষ করে কম আলোতে ছবি তোলার ক্ষেত্রে।

কিন্তু সেলফি ক্যামেরা HM6 যদিও 8MP f/2.2 দিয়েছে, সিম্ফনিরটি 5MP। তাছাড়া HM6-এর সেলফি ক্যামেরা PDAF (Phase Detection Auto-Focus) সমর্থন করে, Z18-এরটি খুব সম্ভবত FF (Fixed Focus)। তো সেলফিতে কাগজে-কলমে HM6 অবশ্যই বেটার করেছে।

এবার যদি ব্যাটারী সেকশনে আসি, এখানে Z18 দিয়েছে 5000mAh বিগ ব্যাটারী, কিন্তু HM6 আরো একধাপ এগিয়ে দিয়েছে ম্যাসিভ 6000mAh ব্যাটারী। ফাস্ট চার্জিং সমর্থন কোনটারই নেই, 10W চার্জার দিয়ে ফুল চার্জ করতে বেশ ভালো রকম সময়ই প্রয়োজন। আরেকটা ব্যাপার আবারো মেনশন করি, হিউজ ব্যাটারী থাকার সাথে এদের চিপসেটের ব্যাটারী কনজাম্পশনও কিন্তু কিছুটা বেশিই, কাজেই সমপরিমাণ ব্যাটারীর অন্য কিছু ডিভাইস থেকে ব্যাকআপ হয়ত একটু কম-ই হবে।

বড় ব্যাটারী হলে প্রশ্ন চলে আসে, থিকনেস আর ওজনের কী খবর। HM6-এর ওজন 213.7g। Z18-এর ওজন সঠিক জানতে পারিনি, ওয়েবসাইটে 114g দেয়া, যা অবশ্যই সম্ভব না, হয়ত টাইপিং মিসটেক হয়েছে, HM6 থেকে একটু হালকা-ই হওয়ার কথা।

অন্যদিকে থিকনেসেও যে ব্যাটারী অনুপাতে খুব ভালো কাজ এরা দেখিয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। Z18-এর থিকনেস 9.3mm, HM6 আরো কিছুটা বেশি থিক খুব স্বাভাবিকভাবেই, 9.96mm।

সবশেষে বললে, HM6 আর Z18-এর মধ্যে আমার কাছে ওভারঅল Z18-ই বেটার মনে হয়েছে, বিশেষ করে ডিজাইন কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, আবার থিকনেস কিছুটা কম হওয়ায় হাতে একটু বেশি কমফোর্টেবল হওয়ারই কথা। HM6 ডিসকাউন্টেড প্রাইস চিন্তা করলে 6000mAh বেটার হিসেবে মন্দ নয়, কিন্তু এর অরিজিনাল দাম হিসেবে 2/32 ঠিক মানায় না।

তাছাড়া HM6-এর অরিজিনাল দাম থেকে আরো একটু কম দামেই ৮,৫৯০ টাকায় কিন্তু Symphony Z32 আছে, যেটা কিনা Z18-এর 3/32 ভার্সন। তবে HM6-এর কিন্তু কোন 3/32 ভার্সন নেই।

অফিসিয়াল ওয়েবপেজ: HM6 Z18

Leave a Reply